Previous
Next

সর্বশেষ

বানিয়াচংয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব্র্যাক অফিসের বাবুর্চির করুণ মৃত্যু

বানিয়াচংয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব্র্যাক অফিসের বাবুর্চির করুণ মৃত্যু

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক (BRAC) অফিসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাসেম মিয়া নামের এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। 


আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত হাসেম মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত উক্ত ব্র্যাক অফিসে বাবুর্চি (রাঁধুনি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ, স্থানীয় ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও হাসেম মিয়া অফিসে নিজের দৈনন্দিন কাজ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হন। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

দীর্ঘদিন ধরে চৌধুরীপাড়ার এই অফিসটিতে রান্নার কাজ করায় স্থানীয় কর্মী ও প্রতিবেশীদের মাঝে তিনি অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখ ছিলেন। তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ব্র্যাক অফিসের সহকর্মী এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। 

মরদেহ উদ্ধারসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়ার কাজ চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লাখাইয়ের দুই ইটভাটার মালিককে জরিমানা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লাখাইয়ের দুই ইটভাটার মালিককে জরিমানা

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় পরিবেশ ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দুইটি ইটভাটাকে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার মোড়াকরি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৬ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৮ ধারার আওতায় সিএমসি ইটভাটার মালিক বাহাদুর উদ্দীনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে তিতাস ইটভাটার মালিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুহিলপুর এলাকার হাজী আব্দুল আলীমের ছেলে মিজানুর রহমানকেও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানকালে পরিবেশ অধিদপ্তর-এর হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সুমন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন লাখাই থানার এএসআই প্রদীপ সূত্রধরসহ পুলিশের একটি দল।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশবিধি ও প্রচলিত আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মাধবপুরে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

মাধবপুরে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরে উপজেলার নোয়াপাড়া সাহেবনগর গেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, আশিক আহমেদ (২৫) ও আবুল বাশার (৩৫)। আশিক আহমেদ ঢাকার খিলক্ষেত থানার পাতিরা এলাকার মো. সেলিম মিয়ার ছেলে। অপরজন আবুল বাশার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বাগবের এলাকার মো. আব্দুল বাতেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে তারা মোটরসাইকেলে করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। পথে নোয়াপাড়া সাহেবনগর গেইট এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিক আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে আবুল বাশারের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 দেশের ৬ বিভাগে ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

দেশের ৬ বিভাগে ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায়; ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও লক্ষ্মীপুর জেলাসমূহের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

গতকাল (সোমবার) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রাম বিভাগের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

গতকাল বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ঢাকায় ৩২.৫, রাজশাহীতে ৩৪.৪, রংপুরে ৩০, ময়মনসিংহে ২৫.৮, সিলেটে ২৪, চট্টগ্রামে ৩৪.৫, খুলনায় ৩৬ এবং বরিশালে ৩৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

এছাড়া আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টাঙ্গাইলে ২০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘন্টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বোচ্চ ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। 

এছাড়া বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

আজ সকাল থেকে ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। যা অস্থায়ীভাবে দমকায় পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘন্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।

সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।

ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১২ মিনিটে।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ১০ লাখ টাকার সেগুনগাছ চুরি

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ১০ লাখ টাকার সেগুনগাছ চুরি

চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকার সেগুনগাছ চুরি করা হয়েছে। কিন্তু বন বিভাগের লোকজনকে গাছ উদ্ধার বা কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, সাতছড়ি বনের ডুমুরতলা এলাকা থেকে বটবৃক্ষ আকারের বিশাল দুটি মূল্যবান সেগুনগাছ চুরি হয়, যা গাছের মোতাই প্রমাণ করে। এ ঘটনার মাসখানেক আগেও সাতছড়ি বনের কাপাই, কুনিমোড়া, তেলমাছড়া এলাকা থেকে ২০-৫৫ টি মূল্যবান সেগুনগাছ চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় জিডি করে দায় এড়ানোই যেন বন বিভাগের মূল দায়িত্ব হয়ে গেছে। তবে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। সংঘবদ্ধ গাছচোরেরা লাখ লাখ টাকার মূল্যবান গাছ কেটে হজম করে ফেলছে। আর এসব গাছ চুরি হচ্ছে একটি বড় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। বন বিভাগ, পুলিশ ও গাছচোরদের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট নিরাপদে পাচার করছে মূল্যবান সব গাছ। চোরাকারবারিরা গোপনে ওয়াটসআপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ ও রাতের আধারে বৈঠক করার কথা স্বীকার করে। সম্প্রতি রেমা কালেঙ্গা বনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের তিনবার গুলাগুলির ঘটনা ঘটলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। বারবার পুলিশের অবহেলা বা ব্যর্থতার কারণে বনদস্যুদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক রয়েছে।

এ ব্যাপারে সাতছড়ির দায়িত্বরত রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘গত চার মাসে দুটি গাছ চুরি হয়েছে, যা আমরা মামলা করেছি, তদন্ত কার্যক্রম চলছে। আশা করছি শিগ্গির চোর ধরা পড়বে।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রেঞ্জার বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের আগে বনের বিভিন্ন স্থান থেকে আরো গাছ চুরির মামলা আদালতে চলমান।’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, একটি বড় গাছ কাটা মানে শুধু একটি গাছ হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য প্রাণীর বাসস্থান, পাখির আশ্রয়, মাটির আর্দ্রতা ও বনজ পরিবেশের ভারসাম্য। এভাবে গাছ কাটা চলতে থাকলে সাতছড়ির জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে।

পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

সহকর্মী পুলিশ কনস্টেবলের ঘর থেকে ফুসলিয়ে এনে বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান (২৯) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানায় প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী তরুণী (২৩) বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা বাজার এলাকায়। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমানের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটোলা গ্রামে। মামলার বিবরণীতে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানায় কর্মরত থাকাকালীন সহকর্মী এক কনস্টেবলের স্ত্রীর ওপর নজর পড়ে মিজানের। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে ফুসলিয়ে তার ৪ বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ ২০২৩ সালের ৭ জুলাই বিয়ে করেন কনস্টেবল মিজানুর রহমান। তবে প্রায় দেড় বছর সংসার করার পর, গত ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী মিজানুরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে কনস্টেবল মিজানুর রহমান সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন।

সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল মিজানুর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুনরায় তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে আবারও বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে গত ৯ মে ওই তরুণীকে নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা গ্রামে তরুণীর নানাবাড়িতে আসেন তিনি। সেখানে রাতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য তরুণীকে চাপ দেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে পরদিন সকালেই মিজানুর কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী তরুণী সোমবার নালিতাবাড়ী থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


আর্থিক সংকটে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারের ৪ চা বাগান ॥ কর্মবিরতির ঘোষণা

আর্থিক সংকটে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারের ৪ চা বাগান ॥ কর্মবিরতির ঘোষণা

আর্থিক সংকটের কারণে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার চারটি চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিকরা। বকেয়া মজুরি, রেশন, উৎসব বোনাসসহ ৭ দফা দাবিতে সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। এতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এবং চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি ও লালচান, পাশাপাশি মৌলভীবাজারের মৃতিঙ্গা চা বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত সপ্তাহে নিয়মিত সাপ্তাহিক তলবি (মজুরি) পরিশোধ করা হয়নি। ফলে চারটি বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে তারা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। ২০১৮ সালের পর থেকে দেউন্দি কোম্পানির আওতাধীন চারটি বাগান কোনো ব্যাংক ঋণ পায়নি। নোয়াপাড়া চা বাগানে অর্থাভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় তিন বছর কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এছাড়া লালচান চা বাগানের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছর লোকসান গুনতে হচ্ছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের। নোয়াপাড়া চা বাগানের ইউপি সদস্য বাবুল রেলী বলেন, “চারটি বাগানেই দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছে। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পাচ্ছেন না। তাই তারা কর্মবিরতিতে গেছেন।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম শ্রমিক ও বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে সাময়িক সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, “২০২২ সাল থেকে মালিকপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

এ বিষয়ে নোয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার সোহাগ মাহমুদ বলেন, “টানা লোকসানের কারণে চারটি বাগান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সংকটের সময় আমরা আংশিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু শ্রমিকরা তা গ্রহণ করেননি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত সংকটের সমাধান হবে।”