সর্বশেষ
"নিষিদ্ধ কীটনাশকে পুড়ল ১,২৬০ শতক ধান — আজমিরীগঞ্জে দুই কৃষকের সর্বনাশ!"
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, শিবিরের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ড. ইউনূস স্পষ্টভাবে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শিবিরে বেড়ে ওঠা হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাক্ষাৎকালে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন রোহিঙ্গা শিবিরে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি শরণার্থীদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে এবং জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত এক বছরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি এখনও প্রত্যাশিত বৈশ্বিক মনোযোগ পাচ্ছে না। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ভাসানচরের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জানান, কিছু রোহিঙ্গা ভাসানচর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, নতুন ভোটারদের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, ইউএনএইচসিআর-এর নতুন প্রতিনিধি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
জবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ, উত্তাল ক্যাম্পাস
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন। দুপুর ১২টার দিকে তারা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রবিবার সকালেই আবাসন ভাতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়েই তারা তালাবদ্ধ কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘২০ ব্যাচের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত মানি না’, ‘বৈষম্যের সিদ্ধান্ত মানি না’, ‘১, ২, ৩, ৪—বৃত্তি মোদের অধিকার’, ‘বৃত্তি আমার অধিকার, না দেওয়ার সাধ্য কার?’সহ নানা স্লোগান দেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচ একটি গৌরবান্বিত ব্যাচ। প্রথম বর্ষে পুরান ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। তবে নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম কিস্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। অথচ যমুনা আন্দোলনে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তিনি আরও বলেন, একক সিদ্ধান্তে বিষয়টি সমাধান সম্ভব নয়। কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা প্রায় ২৫-৩০ জন অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। সব কিছুরই একটা সীমা আছে।”
মৃত ব্যক্তির জন্য করণীয় কিছু আমল
দোয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো লোক মারা যায়, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু তিন প্রকার আমল (জারি থাকে)। (প্রথম) সদকায়ে জারিয়া (চলমান সদকা); (দ্বিতীয়) ওই ইলম, যা দ্বারা অন্য লোক উপকৃত হয়; (তৃতীয়) নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৩৬৫১)। উক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, মৃতদের জন্য আমরা খুব বেশি বেশি দোয়া করতে পারি। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেবেন।
কোরআন তিলাওয়াত : মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃতদের জন্য সুরা ইয়াসিন পাঠ করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১২১) অতএব, নিজের মৃত আত্মীয়দের ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে কাউকে দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করানো উচিত নয়।
রোজা : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ রোজা জিম্মায় রেখে মারা গেলে তার অভিভাবক যেন তার পক্ষ থেকে রোজা রাখে। (বুখারি, হাদিস : ১৯৫২) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আমার মা মারা গেছেন, কিন্তু তাঁর জিম্মায় এক মাসের রোজা ছিল। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে কাজা করতে পারব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আল্লাহর ঋণই অধিকতর পরিশোধযোগ্য। (বুখারি, হাদিস : ১৯৫৩) উক্ত হাদিসগুলো দ্বারা বোঝা যায়, রোজা রেখেও মৃতদের জন্য ইসালে সওয়াব করার সুযোগ আছে।
সদকা : মৃতদের ইসালে সওয়াব করার একটি উত্তম পদ্ধতি হতে পারে সদকা। কারো সামর্থ্য থাকলে দান-সদকার মাধ্যমে মৃত আত্মীয়দের ইসালে সওয়াব করা যেতে পারে।
হজ : বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক মহিলা এসে জিজ্ঞেস করল, ...আমার মা হজ না করে ইন্তেকাল করেছেন। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করতে পারব? তিনি বলেন, (হ্যাঁ), তুমি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করো। (তিরমিজি, হাদিস : ৯২৯) ওই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, মানুষ চাইলে তাদের মৃত আত্মীয়দের ইসালে সওয়াবের নিয়তে হজ করতে পারবে। তা ছাড়া হজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত, যা মৃত ব্যক্তির সওয়াবের পাল্লা অনেক বেশি ভারী করে দিতে পারে।
ওমরাহ : অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল হলো ওমরাহ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরাহ পরপর একত্রে আদায় করো। এ দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন হাপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর করে দেয়। (তিরমিজি, হাদিস : ৮১০)
কোরবানি : মৃতদের পক্ষ থেকে নফল কোরবানি করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা কোরবানির দিনগুলোতে নিজেদের মৃত আত্মীয়-স্বজনের নামে নফল কোরবানি করেও ইসালে সওয়াব করতে পারে। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩৩৫, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/২১১)
এ ছাড়া মিসকিনদের খাবার দেওয়া, নফল নামাজ পড়া, চিকিৎসাসেবাসহ যেকোনো সওয়াবের কাজ করেই মৃতদের জন্য ইসালে সওয়াব করার সুযোগ আছে। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, এতে যেন কোনো নাজায়েজ, বিদআত ও কুপ্রথার অনুপ্রবেশ না ঘটে। আল্লাহর আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন।
বিতর্ক ছাপিয়ে শুরু বিপিএল দ্বাদশ আসর, মাঠে নেই ট্রফি
নেতিবাচক আলোচনায় উঠে আসে নবাগত দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসও। অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে দলটির অনুশীলন ছেড়ে যান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও তালহা জুবায়ের। যদিও পরে তারা অভিমান ভেঙে দলে ফিরে আসেন।
প্রথমদিকে জমকালো আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও ‘নিরাপত্তা’ ইস্যুতে সেটি বাতিল করে বিসিবি। পরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সীমিত পরিসরে উদ্বোধনী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্স। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়রা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে হাজার হাজার বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিপিএলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
তবে সব আয়োজনের মাঝেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল বিপিএলের ট্রফি—যা মাঠেই দেখা যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশ থেকে ট্রফি আসার কথা থাকলেও তা এখনো না পৌঁছানোয় উদ্বোধনী দিনে ট্রফি প্রদর্শন সম্ভব হয়নি। এ কারণেই হয়নি ঐতিহ্যবাহী ক্যাপ্টেনস ডে।