Previous
Next

সর্বশেষ

আইসিসিবিতে গাড়ি কেনার আগে যাচাইয়ের সুযোগ, থাকছে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ

আইসিসিবিতে গাড়ি কেনার আগে যাচাইয়ের সুযোগ, থাকছে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীতে গাড়ি কেনাবেচার ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)। প্রতি শুক্রবার বসছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। গত সাত সপ্তাহের ধারাবাহিক সাফল্যের পর গতকাল শুক্রবার অষ্টম সপ্তাহেও বসে এ আয়োজন। নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ির পাশাপাশি ট্রাক ও বাইকের সমাহার ছিল এবারের বাজারে। আকর্ষণীয় মূল্যছাড় ও উপহারের অফারও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।


উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কার বাজার প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে।


গতকাল মেলায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি গাড়ি। এক পাশে সাজানো ছিল নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, অন্য পাশে প্রদর্শিত হচ্ছিল ব্যক্তিগত ব্যবহৃত গাড়ি। পুরনো গাড়ি বিক্রি করে নতুন গাড়ি কেনার প্রত্যাশায় অনেক মালিক নিজেদের গাড়ি নিয়ে এসেছেন এ বাজারে। ফলে একই জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দেখার পাশাপাশি পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী কেনার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।


মেলায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গাড়ির দামের পাশাপাশি নানা উপহারের ঘোষণাও ছিল। কোনো কোনো বিক্রেতা গাড়ি কেনার সঙ্গে বিনা মূল্যে আইফোন ও ই-বাইক দেওয়ার অফার দিয়েছেন। এসব আকর্ষণীয় অফার ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।


আয়োজকরা জানান, এবারের আয়োজনে মিত্সুবিশি, চ্যাংগান ডিপল ও হুন্দাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নতুন গাড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে ট্রাক ও দুটি চীনা ব্র্যান্ডের বাইক। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যেকোনো ট্রাক কেনার সঙ্গে একটি স্কুটি বিনা মূল্যে দেওয়ার অফার রয়েছে। মেলায় আট লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা দামের গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে।


গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের স্বস্তি ও আস্থা বাড়াতে রাখা হয়েছে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে গাড়ি কেনার আগেই ইঞ্জিন, চেসিস, হুইলবেসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরীক্ষা করে সার্বিক অবস্থা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া গাড়ি প্রদর্শনের জন্য রয়েছে বিশেষ র‍্যাম্প ডিসপ্লে। এর ফলে বিক্রেতারা নিজেদের গাড়ি আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন।


আইসিসিবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ‘মেলার অষ্টম সপ্তাহে এসেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। এক ছাদের নিচে কার, ট্রাক, বাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া গাড়ি কেনার আগে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপে গাড়ির সার্বিক অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।’

মানবিকতার জয়গানে সান্তাহারে মিলিত হলেন শুভসংঘের তিন শতাধিক বন্ধু

মানবিকতার জয়গানে সান্তাহারে মিলিত হলেন শুভসংঘের তিন শতাধিক বন্ধু

বগুড়া প্রতিনিধি: মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বন্ধনে এক মিলনমেলায় পরিণত হয় বগুড়ার সান্তাহারের শখের পল্লী। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলা থেকে আসা তিন শতাধিক বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে হীরাঝিল কনভেনশন সেন্টার। পরিচিত-অপরিচিত মুখের মিলন, অভিজ্ঞতা বিনিময় আর মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।


‘চলি মানবতার সাথে’ স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২১ অক্টোবর বুধবার বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অনুষ্ঠিত হয় বসুন্ধরা শুভসংঘের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সম্মেলন। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দুই বিভাগের ১৬ জেলার তিন শতাধিক সদস্য অংশ নেন। মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে আয়োজন করা হয় এ সম্মেলনের।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন।


বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি শামীম আল মামুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সাদেকুল ইসলাম, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও শখের পল্লীর স্বত্বাধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম এবং বগুড়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিমন বাসার।


সম্মেলনে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও মানবিক উদ্যোগে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত ৬৫ জন সংগঠককে ‘সেরা সংগঠক সম্মাননা স্মারক’ ও সনদপত্র দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বগুড়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিমন বাসার এবং সান্তাহারের প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ রফিকুল ইসলাম মন্টুকে ‘কৃতী সাংবাদিক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ইমদাদুল হক মিলন তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ কেবল একটি সামাজিক সংগঠন নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার। অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় সংগঠনের সদস্যদের এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই প্রত্যয় দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ নিরলসভাবে কাজ করছে। সংগঠনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংগীতে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইসিসিবিতে উৎসব

ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংগীতে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইসিসিবিতে উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর কোলাহলমুখর পরিবেশ থেকে কিছুক্ষণের জন্য ভিন্ন এক আবহে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে। এখানে একই আয়োজনে মিলেছে মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী খাবার, সুফি সংগীত আর রাজকীয় পরিবেশনা। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রসনার এই সম্মিলন সংগীতপ্রেমী এবং ভোজনরসিকদের জন্য তৈরি করেছে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।


গতকাল শুক্রবার রেস্টুরেন্টটিতে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর প্রথম পর্ব। ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামে আয়োজিত এই পর্বে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে সংগীত ও খাবারের বিশেষ আয়োজন।


রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় সুফি সংগীতের মায়াবী সুর। কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, আবার কখনো আত্মিক উপলব্ধির কথা উঠে আসে গানের কথায়। মঞ্চে চলতে থাকে সংগীত পরিবেশনা, আর টেবিলে একে একে পরিবেশন করা হয় মোগল আমলের রন্ধনশৈলী অনুসরণে তৈরি নানা পদ। চারপাশের আলো, সাজসজ্জা ও সংগীতের সমন্বয়ে তৈরি হয় এক বিশেষ আবহ।


ছুটির দিনের সন্ধ্যায় কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন এ আয়োজনে। রাজধানীর ব্যস্ততা ও দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পান অতিথিরা। খাবার ও সংগীতের পাশাপাশি পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া।


‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর অন্যতম আকর্ষণ মোগল আমলের খাবার। ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালি অনুসরণ করে তৈরি এসব খাবারের স্বাদ ও পরিবেশনায় তুলে ধরা হয়েছে মোগল সংস্কৃতির আভিজাত্য। পরিবেশনকর্মীরাও মোগল আমলের পোশাকে অতিথিদের সামনে খাবার তুলে ধরেন। এতে রেস্টুরেন্টের সামগ্রিক পরিবেশে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।


আয়োজকদের ভাষ্য, মোগল খাবারের সঙ্গে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির রয়েছে ঐতিহাসিক যোগসূত্র। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সমসাময়িক পরিবেশে উপস্থাপন করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি অতিথিরা যেন মোগল আমলের রন্ধনশৈলী, জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


সংগীতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ই ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর মূল আকর্ষণ। প্রতি সপ্তাহে সংগীতের ভিন্ন ধারা ও পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।


শুক্রবারের সুফি সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আট সপ্তাহের প্রতিটি শুক্রবারে থাকছে সংগীতের আলাদা আয়োজন। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসংগীত। ১৩ নভেম্বর থাকবে নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গান এবং ২০ নভেম্বর নজরুলগীতি।


এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর পরিবেশিত হবে কালজয়ী বাংলা গান। ৪ ডিসেম্বর থাকছে পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীত, ১১ ডিসেম্বর শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত এবং ১৮ ডিসেম্বর লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আট সপ্তাহের এই আয়োজন।


প্রতি শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে সংগীতের এ আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, ভিন্নধর্মী সংগীত পরিবেশনা ও নান্দনিক পরিবেশের সমন্বয়ে ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’ অতিথিদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।

টিনের চালাঘর থেকে বহুতল ভবন, নতুন স্বপ্ন দেখছে ভাওয়াইয়া পরিষদ

টিনের চালাঘর থেকে বহুতল ভবন, নতুন স্বপ্ন দেখছে ভাওয়াইয়া পরিষদ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের লোকসংগীত ভাওয়াইয়ার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই সংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দিতে কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের স্থায়ী বহুতল ভবন। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে একটি টিনের চালাঘরে সংগীতচর্চা ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা সংগঠনটির জন্য এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর শুক্রবার দুপুরে স্থাপন করা হয়েছে। এ উদ্যোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপসহ স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসী সহযোগিতা করছেন।


১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে একটি সাধারণ টিনের চালাঘরেই সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এখান থেকে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাওয়া প্রায় তিন হাজার ভাওয়াইয়া শিল্পী তৈরি হয়েছেন।


দীর্ঘদিনের এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে স্থায়ী ও আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা পাঁচ শতক জমির ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


শুক্রবার দুপুরে উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভুপতি ভূষণ বর্মা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বশীর আহমেদ।


এতে বক্তব্য দেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী, ভাওয়াইয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং জমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের ছেলে এনামুর রহমানসহ অন্যরা।


অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি খন্দকার একরামুল হক সম্রাট এবং নিউজ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভাওয়াইয়া উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই সংগীতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে সংগীতচর্চা, প্রশিক্ষণ ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।


তারা আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি প্রতিষ্ঠিত হলে ভাওয়াইয়া সংগীতের চর্চা নতুন গতি পাবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা উপযুক্ত পরিবেশে প্রশিক্ষণ ও সাধনার সুযোগ পাবেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই লোকসংগীতের প্রসার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আরও সমৃদ্ধ হবে।

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে ঢাকাকে জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বুধবার সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে দেশের পরিবেশ উন্নয়ন ও সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে সাধারণত ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায় না। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকার চিত্র চোখে পড়ে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। কারণ, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলে রাখলে সেখান থেকে জীবাণু ছড়িয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


তিনি বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে যেন আবর্জনা বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


পরিবেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বায়ুদূষণ কমানো এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। দূষিত বাতাসের কারণে মানুষ যেন অসুস্থ না হয়, সে জন্য পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।


তারেক রহমান বলেন, ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হলে তা দেশের জন্য একটি বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে।


সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো খেটে খাওয়া মানুষ ও সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুফল পান বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারসহ সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।


প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে বিএনপিকে ভোট দেন। কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তাহলে আমাদের সমর্থন দিন, যাতে সেগুলো বাস্তবায়ন করা যায়।’


এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শিশুশিক্ষার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।


অনুষ্ঠান শেষে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীকে একটি আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।

সুফি সংগীতের আবহে আইসিসিবি হেরিটেজে জমকালো আয়োজন

সুফি সংগীতের আবহে আইসিসিবি হেরিটেজে জমকালো আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে খাবারের স্বাদের সঙ্গে সংগীতের মেলবন্ধনে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী বিশেষ আয়োজন ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’। মুঘল আমলের ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের আবহে আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম পর্ব সাজানো হয়েছে সুফি সংগীত দিয়ে। ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামের এ আয়োজনে থাকছে সরাসরি সংগীত পরিবেশনা ও মুঘল ঐতিহ্যের রাজকীয় খাবারের সমাহার।


কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ৩০০ ফুট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থিত রেস্টুরেন্টটিতে প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত চলবে এই সংগীত আয়োজন। এতে সংগীতপ্রেমীদের পাশাপাশি ভোজনরসিকদের জন্যও থাকছে বিশেষ অভিজ্ঞতার সুযোগ।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুফি সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। আট সপ্তাহের এই আয়োজনে পর্যায়ক্রমে বাংলা ও হিন্দি গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, শাস্ত্রীয় সংগীত ও লোকসংগীত পরিবেশিত হবে।


উৎসবের পরবর্তী আয়োজনের সূচি হলো—


৬ নভেম্বর: রবীন্দ্রসংগীত

১৩ নভেম্বর: নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গান

২০ নভেম্বর: নজরুলগীতি

২৭ নভেম্বর: কালজয়ী বাংলা গান

৪ ডিসেম্বর: পিয়ানো ও ভোকাল

১১ ডিসেম্বর: শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত

১৮ ডিসেম্বর: লোকসংগীত বা ফোক

আয়োজন উপভোগ করতে আগ্রহীদের অগ্রিম টেবিল বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে ০১৯৬৯৯৯৯৮৬৬ ও ০১৯৯১১৯৭৭১৯ নম্বরে।

স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ, ১৬৮ নারীর হাতে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ঋণ

স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ, ১৬৮ নারীর হাতে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ঋণ

স্টাফ রিপোর্টার: অভাব-অনটনের কারণে যাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বারবার থমকে গেছে, তাঁদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ কার্যক্রম। কোনো জামানত ছাড়াই এ ঋণ নিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত নারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১৬৮ নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন।


গতকাল উপজেলার আকানগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফাউন্ডেশনের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই। মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


বসুন্ধরা গ্রুপের এ মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে গত দুই দশকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার এবারকার উপকারভোগী নারীদের প্রত্যেকের ওপর একটি করে পরিবার নির্ভরশীল। আর্থিক সংকটের কারণে নিজেদের উদ্যোগে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড শুরু করতে না পারলেও বিনা সুদে ঋণ পেয়ে নতুন করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।


অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই বলেন, চড়া সুদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে অসচ্ছল নারীরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এ কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নয়নেই ভূমিকা রাখছে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ টাকা কোনো অবৈধ কাজে ব্যয় করা যাবে না। সৎ ও বৈধ উপায়ে আয় করার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এর মাধ্যমে পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকপক্ষের জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান তিনি।


বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে। ঋণ বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ কার্যক্রম গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাঁদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


ঋণের অর্থ হাতে পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন উপকারভোগীরা। নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের শিল্পী আক্তার (৩০) জানান, ঋণের টাকা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান তিনি।


একই উপজেলার বাড়াইল গ্রামের মর্জিনা আক্তার (৩৫) বলেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজ করেন। ঋণের অর্থ কৃষিকাজে বিনিয়োগ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চান তাঁরা।


অন্যদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আকানগর গ্রামের গীতা রানী (৩৮) আগের ঋণের অর্থ কাজে লাগিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগেরবার ঋণের টাকা দিয়ে তাঁর স্বামী আসবাবপত্র তৈরি করে বিক্রি করেছিলেন। এবার ঋণের অর্থ দিয়ে একটি গরু কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবারের আয় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।


ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মোট ১৬৮ জন নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবার ঋণ পেয়েছেন ৫০ জন, প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়বার ২২ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়বার ২১ জন পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া চতুর্থবারের মতো ৭৫ জনকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।


কোনো সুদ, সার্ভিস চার্জ কিংবা জামানত ছাড়াই পরিচালিত বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ ঋণ কার্যক্রম সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সহায়তা করছে।