Previous
Next

সর্বশেষ

৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হবে নায়ক সালমান শাহ’র লাশ

৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হবে নায়ক সালমান শাহ’র লাশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃতদেহ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন। বুধবার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃতদেহ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব। আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বাদী মো. আলমগীর (৬৮) আদালত হতে তথ্য প্রদানকারী নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে জানান যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাদীর বোন জামাতা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তার ছোট ছেলে শাহরান শাহ্ সহ নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় তার ভাগিনা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহ’র সাথে দেখা করতে যান। তখন স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল তাদেরকে জানান যে, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তখন তারা তাদের গ্রিন রোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহ’র বাসা থেকে টেলিফোন করে জানানো হয়, সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন। তখন তারা দ্রুত নিউ ইস্কাটন রোডস্থ ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় এসে দেখেন যে, সালমান শাহ তার শয়নকক্ষে খাটের উপরে মরার মতো পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিম সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। অতঃপর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সংক্রান্তে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ’র মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফা জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজহারে আরো জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ড বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে

পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মনোনীত হলেন হুইপ জি কে গউছ এমপি

পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মনোনীত হলেন হুইপ জি কে গউছ এমপি

পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এমপি। কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ।

জানা গেছে, নবগঠিত ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যই জাতীয় সংসদের বর্তমান সদস্য। ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, নতুন কমিটির নেতৃত্বে পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ এবং সদস্যদের কল্যাণমূলক কর্মকান্ড আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে

মানু মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৩ জন গ্রেফতার

মানু মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৩ জন গ্রেফতার

হবিগঞ্জের আজমেরীগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মানু মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ২টার দিকে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মালেক মিয়া (৩৯) ও আলেক মিয়া (৩৭)। তারা উভয়েই মৃত নূর মিয়ার ছেলে এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বাসিন্দা। এবং অপর ব্যক্তি সুমন আহমেদ জয় (২৯)। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশী এলাকার বাসিন্দা এবং হুমায়ুন কবির শাহিনের ছেলে। মামলার বিবরণ উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, নিহত মান উল্লাহ ওরফে মানু মিয়া হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত ১০ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামি মালেক মিয়া ও তাজুল ইসলামের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করলেও কিছুক্ষণ পর মালেক মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মানু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাজুল ইসলামকে আক্রমণ করে। এ সময় তাজুল ইসলামকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন মানু মিয়া ও তার স্ত্রী রিনা বেগম। অভিযোগ অনুযায়ী, মালেক মিয়া তার হাতে থাকা কাঠের রুল দিয়ে মানু মিয়াকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা বাদী হয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নং-০৪/৩৯, তারিখ ১২ মে ২০২৬; যার ধারাসমূহ হলো ১৪৩/৪৪৭/৩৩২/৩০৭/৩০২/৫০৬/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ এর সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং সিপিএসসি, সিলেটের যৌথ আভিযানিক দল মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সিলেট মহানগরের শাহপরাণ (রহ.) থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বরদুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে। একইদিন দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শাহপরাণ (রহ.) থানার উপশহর এলাকার আজমল অ্যান্ড আফতাব হাউজের সামনে পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আরও এক পলাতক আসামি সুমন আহমেদ জয়কে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদের হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

হবিগঞ্জে মাদকসেবীর এক বছরের কারাদণ্ড

হবিগঞ্জে মাদকসেবীর এক বছরের কারাদণ্ড

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় মাদক সেবন করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দায়ে উমায়েদ চৌধুরী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের বানিয়াগাঁও-রঘুরামপুর সড়কসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়।

দণ্ডপ্রাপ্ত উমায়েদ চৌধুরী উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শফিয়াবাদ গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন চৌধুরীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানিয়াগাঁও-রঘুরামপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের আনাগোনা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি একটি ইটভাটায় মাদক সেবন করে মাতলামি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় একজনকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ইউএনও উজ্জ্বল রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর আওতায় আটক উমায়েদ চৌধুরীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে বাহুবল থানা পুলিশের সদস্যরা এবং স্থানীয় জনসাধারণ প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, “বাহুবল উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর এবং এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

বাজেট বুঝেন না চা শ্রমিকরা, তবু প্রত্যাশা জীবনমান উন্নয়নের

বাজেট বুঝেন না চা শ্রমিকরা, তবু প্রত্যাশা জীবনমান উন্নয়নের

জাতীয় বাজেট নিয়ে যখন দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা, তখন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি চা বাগানের অধিকাংশ শ্রমিকের কাছে বাজেট যেন এক অপরিচিত বিষয়। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল সম্পর্কে তাদের জানাশোনা সীমিত। দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রাম, সংসারের খরচ আর মজুরি নিয়েই তাদের প্রধান চিন্তা।

মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর, জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া ও সুরমা চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় বাজেট কী, এতে তাদের জন্য কী ধরনের বরাদ্দ থাকে কিংবা এর প্রভাব তাদের জীবনে কীভাবে পড়ে, সে বিষয়ে অধিকাংশ শ্রমিকের সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক রমেশ সাঁওতাল বলেন, “বাজেটের কথা টেলিভিশনে শুনি, কিন্তু এর ভেতরে কী থাকে তা জানি না। আমাদের চিন্তা সপ্তাহ শেষে মজুরি পাব কি না, সন্তানদের খাবার জুটবে কি না।”

একই বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলী মুন্ডা বলেন, “বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু আমাদের আয় সেই তুলনায় বাড়ে না। বাজেটে আমাদের জন্য কী আছে, কেউ কখনো জানায় না। তবে আমরা চাই সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা আমাদের জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিক।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, চা শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসুবিধার সংকট দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চা বাগানে বকেয়া মজুরি ও রেশন বিতরণ নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষও দেখা গেছে। হবিগঞ্জের কয়েকটি বাগানে বকেয়া মজুরির দাবিতে আন্দোলন ও কর্মবিরতির ঘটনাও ঘটেছে।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, জাতীয় বাজেটে চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ কল্যাণ তহবিল গঠন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আবাসন উন্নয়ন, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং শিশুদের শিক্ষার জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিকদের মতামত ও বাস্তব সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।

অর্থনীতি ও শ্রম বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের চা শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কম মজুরি, সীমিত সামাজিক নিরাপত্তা এবং মৌলিক সেবার ঘাটতির কারণে তারা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল থেকে অনেকাংশেই বঞ্চিত।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজেট ঘোষণার পর শুধু শহরকেন্দ্রিক আলোচনা নয়, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝেও এর প্রভাব ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের মতো পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও প্রত্যাশা বাজেটে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।

চা শ্রমিকদের সহজ ভাষায়, “বাজেটের হিসাব বুঝি না, কিন্তু এমন বাজেট চাই, যাতে আমাদের জীবনটা একটু ভালো হয়।

হামলা চেষ্টার অভিযোগ মাহদীর সাজানো নাটক, ভাইরাল হওয়ার অপচেষ্টা: জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগন

হামলা চেষ্টার অভিযোগ মাহদীর সাজানো নাটক, ভাইরাল হওয়ার অপচেষ্টা: জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগন

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা চেষ্টার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুর দেড়টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান। লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলার চেষ্টা করেছে। একপর্যায়ে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন

তবে মাহদীর এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি বলেন, “মাহদীর ফেসবুক লাইভেই তার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ লাইভে যখন তিনি রিকশার পেছনের দৃশ্য দেখাচ্ছিলেন, তখন সেখানে কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

রিংগন আরও বলেন, “কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে শুরু করে আজকের লাইভ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিজেকে আলোচনায় আনা ও ভাইরাল হওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। এটি একটি সাজানো নাটক।”

তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি ও তার পরিবার দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাদের সম্পর্কে কেউ কটূক্তি বা আপত্তিকর মন্তব্য করলে অতীতের মতো ছাত্র-জনতা তার জবাব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।”

এ বিষয়ে মাহদী হাসানের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মন্তব্য জানা গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
হবিগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ২ জনের

হবিগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ২ জনের

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেজুড়া ও আন্দিউড়া এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াপাড়া থেকে মাধবপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা বেজুড়া ও আন্দিউড়া এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালে পেছন থেকে বালুবাহী একটি ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালক নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বেঙ্গাডোবা গ্রামের বাবু মিয়ার ছেলে আক্কাছ মিয়া (৪৩) এবং যাত্রী মনোয়ারা বেগম (৭০) নিহত হন।

আহত হন নোয়াপাড়া এলাকার তাকমিনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অপর যাত্রীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিস ও শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা